আলো-মহাবিশ্বের মহাবিষ্ময়
আলো-মহাবিশ্বের মহাবিষ্ময়
-Shahriar Abdullah
সৌন্দর্য কথাটি বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে মনোরম কোনো দৃশ্য। হতে পারে তা ফুলে ফলে সজ্জিত কোনো বাগান, হতে পারে রাতের আলো ঝলমলে শহর কিংবা মহাকাশের কোনো অপূর্ব দৃশ্য। এসবই আমাদের দৃষ্টিকে বিমোহিত করে।
আমরা যেকোনো কিছু দেখতে পাই আমাদের দর্শন ইন্দ্রিয় বা চোখের মাধ্যমে। চোখ চারপাশ থেকে আলো গ্রহণ করে। বিভিন্ন রকমের আলোই মুলত আমাদের সৌন্দর্যের অনুভূতির সুচনা করে।
আমরা অনেকেই জানি আলো এক প্রকার শক্তি যা একধরনের তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ। এই তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হয় না। বরং শক্তির কতগুলো (বাস্তবে অসংখ্য) প্যাকেট আকারে প্রবাহিত হয়। এই প্যাকেটের নাম হচ্ছে ফোটন। ধারণা করা হয় বিগ ব্যাং এর ১ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে ইলেকট্রন ও পজিট্রন সংঘর্ষ করার ফলে প্রথম ফোটন তৈরি হয়। আবার ফোটন ভেঙে ইলেকট্রন ও পজিট্রন তৈরি হয়। এভাবেই মিথস্ক্রিয়া চলতে থাকে।
যদিও ফোটনের সৃষ্টি অনেক আগে কিন্তু বিগ ব্যাং এর প্রায় ৩ মিলিয়ন বছর কাল পর্যন্ত মহাবিশ্ব অন্ধকারেই নিমজ্জিত ছিল। কারণ এর আগে কোনো পরমাণু গঠিত হয়নি, অর্থাৎ এ সময়ই প্রথম পরমাণু গঠিত হয়। ফলে এর আগে দেখারমত কোনো বস্তু ছিল না।
এখন প্রশ্ন হতে পারে আলো সৃষ্টির পরও মহাবিশ্ব কিভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকতে পারে?
বিষয়টি বুঝার জন্য একটু গভীর চিন্তা প্রয়োজন।
আলো থাকার পরও না দেখার বিষয়টি তখনই সম্ভব যদি আমারা আলো দেখতে না পাই। আর বাস্তবেও তাই। আমরা আলো দেখতে পাই না। এ বিষয়টিই আলোর সবচেয়ে রহস্যময় ও চমকপ্রদ দিক।
এ সম্পর্কে সবাই একমত নাও হতে পারেন। তার পেছনে যুক্তি হচ্ছে যে, আমরা বৈদ্যুতিক বাল্ব দেখতে পাই, দেখতে পাই আমাদের চারপাশের সবকিছুই। কিন্তু বাস্তব ব্যাপারটি একটু ভিন্নতর। আমরা কোনো বস্ততে আলো প্রতফলিত হয়ে চোখে আসলে বস্তুটি দেখতে পাই, আলো নয়। টিনের চালের সুক্ষ্ম ছিঁদ্র বা জানালার ফাঁকে আসা তীক্ষ্ণ আলোক রশ্মির কথা সবারই জানা। এক্ষেত্রে আমরা বাতাসের ধূলিকণা এবং বাতাসে থাকা অনু-পরমানু থেকে প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখে আসলে আমরা ঐ সূক্ষ্ম অংশটুকু আলোকিত দেখি। একইভাবে আমরা আলোক উৎসগুলো দেখতে পাই।
সুতরাং, পরেরবার বাল্বের দিকে তাকিয়ে ভাববেন না যেন যে আপনি আলো দেখছেন!
আলো-মহাবিশ্বের মহাবিষ্ময়
Reviewed by Biggan Janala
on
April 02, 2020
Rating:
Reviewed by Biggan Janala
on
April 02, 2020
Rating:



Really amazing.
ReplyDelete