Light Pollution: আধুনিক সভ্যতার আনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব
Light Pollution: আধুনিক সভ্যতার আনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব
-Shahriar Abdullah and Zahir Sadik
মানবসভ্যতা যতই উন্নত হয়েছে, প্রকৃতি ততই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়তই প্রকৃতির উপর পড়া বিরুপ প্রভাব সম্মন্ধে জানতে পারি। যেমনঃ মাটি দূষণ, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ ইত্যাদি। বিষাক্ত গ্যাস এর নির্গমন, বিষাক্ত বর্জ্য নিক্ষেপ , অতিরিক্ত কীটনাশক, যান্ত্রিক কোলাহল ইত্যাদি কারণে পরিবেশের উপাদানসমূহ প্রতিনিয়তই দূষিত হয়ে চলেছে। কিন্তু আপনি কখনও চিন্তা করেছেন যে "আলো" দূষণের কারণ হতে পারে?লাইট পলিউশন কি?
লাইট পলিউশন হল রাতের আকাশে মানব সৃষ্ট আলোর মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি। এটি ফটো পলিউশন নামেও পরিচিত। বৈদ্যুতিক বাতি যে পরিমাণ আলো তৈরি করে তার সম্পূর্ণ আলো আমরা ব্যবহার করতে পারি না। এর কিছু অংশ (সাধারণত ৪০ - ৫০%) আলো সরাসরি কিংবা প্রতিফলিত হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়, যা রাতের আকাশকে আলোকিত করে তোলে। ফলে রাতের আকাশ কিছুটা হলদে বর্ণ ধারণ করে। এটিই মূলত লাইট পলিউশন বা ফটো পলিউশন। ফলস্বরূপ রাতের আকাশের তারকারাজি কৃত্রিম আলোয় ঢাকা পড়ে যায়।
ফটো পলিউশন এর প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক আলো এবং যানবাহনের আলো বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ, ফটো পলিউশনের ক্ষেত্রে সড়ক বা রাস্তা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি পলিউটেড এরিয়া। এরপরেই শহরে বাড়ি-ঘর, শপিংমল বা কোনো ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের চাকচিক্যময় আলো ফটো পলিউশনের কারণ হিসেবে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। এছাড়া রেলওয়ে স্টেশন, স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর বা বিলবোর্ডের আলো ইত্যাদিও ফটো পলিউশন অন্যতম কারণ।
এখন এধরণের প্রশ্ন আসতেই পারে যে, রাতের আকাশে আলোর উপস্থিতি কি বা এমন ক্ষতি করে?
আমরা সকলেই আমাদের শৈশবের স্মৃতিগুলো সোনালী দিন হিসেবে স্মরণ করে থাকি। শৈশবে মাঠে ঘাটে দুরন্ত ছুটোছুটি আর রাতে খোলা আকাশের নিচে বসে খোশগল্পে মেতে থাকার আনন্দ আমরা অনেকেই আবার ফিরে পেতে চাই। কিন্তু ফটো পলিউশনের কারণে কখনোই রাতের তারকা সুশোভিত আকাশ দেখা সম্ভব নয়। কয়েকটিমাত্র উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইটই রতের আকাশে অসংখ্য তারা ঢেকে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এর ফলে যেসব ক্ষতি হয় তা অনুধাবন করা যতটা কষ্টকর এর প্রভাব তারচেয়েও বেশি ব্যাপক।
সামুদ্রিক কচ্ছপসহ কিছু প্রাণী রাতের বেলা সমুদ্রে ফিরে যেতে বিভিন্ন তারা দেখে দিক ঠিক করে থাকে। কিন্তু ফটো পলিউটেড এরিয়ায় এ কাজ করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে এবং তারা পথ ভুল করে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এভাবেই অনেক প্রাণী মৃত্যুর সম্মুখীন হয়। তাছাড়া ফটো পলিউশনের কারণে মহাকাশ গবেষণা কাজেও কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। কখনো কখনো দেখা যায় ফটো পলিউশনের কারণে মনুষের রাতের আরামদায়ক ঘুম ব্যহত হয়। ফলে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে আমাদের এই পৃথিবীতে জ্বলানীর পরিমাণ নির্দিষ্ট। ফটো পলিউশনের কারণে অতিরিক্ত শক্তি খরচ হয় অর্থাৎ জ্বালানীর অপচয় হয়।
যেখানেই সমস্যার উদ্ভব ঘটে, সেখানেই সমাধানের পথ পাওয়া যায়। এখানে তার ব্যতিক্রম নয়। অনেক দূষণের সমাধানের জন্য কয়েক ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
১. অপ্রয়োজনে লাইট না জ্বালানো এর একটি কার্যকরী সমাধান। যেখানেই যখন লাইট জ্বালানোর প্রয়োজন পরবে না সেখানে লাইট না জ্বালিয়ে যেমন দূষণ প্রতিরোধ করা যাবে, তেমনি বাঁচবে অর্থ ও এনার্জি।
২.স্ট্রিট লাইটের কভার বা শেড ব্যবহার করা আরেকটি কার্যকরি সমাধান। ছবির মাধ্যমেই অস্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। বুদ্ধিমত্তার সাথে এ ধরণের কভার ব্যবহারে দূষণ কমে যায় এবং উৎপন্ন হওয়া আলোর বেশিরভাগই কাজে লাগে।
৩.LED লাইট আরেকটি সমাধান। একধরণের LED লাইট আছে যেগুলোর আলোর প্রতিফলন অনেক কম। Street light হিসেবে সেগুলোর ব্যবহার আলোক দূষণ রোধে কার্যকরি,যদিও সেক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বেশি।
আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহাকাশকে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য তারকা ও মহাজাগতীয় বস্তুর সমন্বয়ে,যা আমাদের আশ্চর্যিত করে। কিন্তু আমাদের কিছু অসচেতনতা ও অনীহার কারণে আমরা সেগুলো বুঝতে পারছি না, প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পারছি না। অন্যদিকে পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছি।এটা আমাদের দায়িত্ব আলোক দূষণ নির্মূল করা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে পৃথিবীর বাইরে গভীরভাবে ভাবতে উদ্ধুদ্ধ করা যাতে মানবজাতি পাড়ি দিতে পারে সুদূর মহাবিশ্বে।
Light Pollution: আধুনিক সভ্যতার আনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব
Reviewed by Biggan Janala
on
May 13, 2020
Rating:
Reviewed by Biggan Janala
on
May 13, 2020
Rating:







No comments