পর্ণোগ্রাফি : আসলেই ভালো ?
পর্ণোগ্রাফি : আসলেই ভালো ?
User81608
user81608@gmail.com
প্রযুক্তির যত উন্নতি হয়েছে, ততই সহজলভ্য হয়ে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট। সাথে পাল্লা দিয়ে সহজলভ্য হয়ে পর্ণগ্রাফি। এটা এতটাই সহজলভ্য হয়েছে যে ১০-১১ বছর বয়সের কিশোর – কিশোরীরাও পর্ণগ্রাফি সম্পর্কে জানে। তাদের অবসর, শৈশব এর সময়টুকু তারা কাটিয়ে দেয় পর্ণগ্রাফি দেখে।
বাংলাদশে ২০১৩ সালে এক জরিপে দেখা যায়, স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের শতকরা ৬১-৬৫ ভাগ পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত, যাদের অধিকাশের বয়স ১১-১৫ বছর। রাজধানী ঢাকায় সাইবার ক্যাফে, সিডি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রায় ২.৫ কোটি টাকার পর্ণগ্রাফি কেনা বেচা হয়। বর্তমানে এর ভয়াবহতা আরো বেশি।
পর্নোগ্রাফি দেখার চুড়ান্ত ফলাফল হলো হস্তমৈথুন। যা সাময়িক সময়ের জন্য সুখ বা প্রশান্তি দিয়ে থাকে। তবে পর্ণোগ্রাফির ভিডিও দেখা বা হস্তমৈথুন করা কতটা ক্ষতিকর বা কতটা ভালো?
চলুন জেনে নেয়া যাক পর্ণোগ্রাফির ভিডিও গুলো ও হস্তমৈথুন একজন মানুষের জীবনে কি কি প্রভাব ফেলতে পারে।
*1*
যখন কেউ পর্ণোগ্রাফি দেখে ও হস্তমৈথুন করে তখন তার মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নামক হরমোন ক্ষরণ হয়। ডোপামিন হরমোন মানুষকে সুখ, প্রশান্তির অনুভুতি দেয়। যখন কেউ বার বার পর্ণ ভিডিও দেখে তখন তার তার মধ্যে এ ডোপামিন হরমোন এর অভাব দেখা দেয়,ফলে সে আর সুখ অর্জন করতে পারে নাহ। জীবনের তুচ্ছ বিষয়গুলো যা তার মনে আগে গভীর আনন্দ দিত, সেগুলো তার মনের মধ্যে আর কোন ছাপ ফেলতে পারে নাহ।
*2*
পর্ণোগ্রাফি দেখা ও হস্তমৈথুন করার ফলে পুরুষদের টেস্টোস্টোরন হরমোন কমে যায় । পুরুষদের জন্য এ হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে যদি টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যায় , তাহলে কী হতে পারে ? ১ ) ক্লান্তিভাব । ২ ) বিষন্নতা ৩ ) দুর্বল স্মৃতিশক্তি ৪ )মনোযোগ কমে যাওয়া ৫ ) অতিরিক্ত অস্থিরতা ৬ ) কম শারীরিক সক্ষমতা । ৭ ) আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া ৮ ) পুরুষালি আচরণ কমে যাওয়া ৯ ) আচরণে মিনমিনে ভাব আসা ১০ ) স্বাভাবিক যৌনক্রিয়াতে আগ্রহ না থাকা ১১ ) দ্রুত বীর্যপাত
*3*
২০০১ সালের একটি গবেষণার দেখা গেছে , হস্তমৈথুন করার ৩০ মিনিটের মধ্যে হস্তমৈথুনকারীর শরীরে Noradrenaline এর পরিমাণ অনেক কমে যায় । শরীরে Noradrenaline কমে যাবার ফলাফল কী ? Noradrenaline হলো এমন একটি হরমান , যা কোন কিছুর প্রতি অখণ্ড মনোযোগ ধরে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।ফলে মনো্যোগ হ্রাস পেতে থাকে।
*4*
পর্ণোগ্রাফি ও এর মতো অশ্লীল দৃশ্য দেখার ফলে মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায়। তখন একজন স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতে পারে নাহ। তার আচরণও বিকৃত হয়ে যায়। অন্তর অনুভুতি শুন্য হয়ে যায়। আত্মাবিশ্বাস কমে যায়।
*5*
মানুষের আনন্দের অনুভূতি আসে মূলত ডোপামিন থেকেই। কেউ যখন পর্ণোগ্রাফি দেখার মাধ্যমে তার ডোপামিন হরমোন খরচ করে, তখন বিষন্নতায় ভুগতে শুরু করে । হতাশা , উৎকণ্ঠা , কর্মক্ষেত্রের মেন্টাল স্ট্রেস থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য অনেকেই পর্ণোগ্রাফি দেখে, হস্তমৈথুন করে । কিন্তু কিছুক্ষণ পরে হতাশা , উৎকণ্ঠা , মেন্টাল স্ট্রেস আবারও ফিরে আসে শতগুণ শক্তিশালী হয়ে।
*6*
পর্ণোগ্রাফির ভিডিও দেখা মাধ্যমে মানুষের নৈতিকতা নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে ধর্ষণ এর মত অমানবিক ঘটনা, নির্যাতন বেড়েই চলেছে। মানুষ হয়ে পড়ছে বিবেকহীন পশূর মত। এ ছাড়াও বিপরীত লিঙ্গ এর আকর্ষণ হ্রাস পাওয়ার পিছনে বয়েছে পর্ণোগ্রাফি, এর ফলেই সমকামিতার মত জঘন্য বিষয় সমাজে ছড়িয়ে পরছে।
*7*
পর্ণগ্রাফি দেখার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে মানুষের দাম্পত্য জীবনে। পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত একজন তার সঙ্গীর কাছ থেকেও পর্ণভিডিও এর দৃশ্যর মত আচরণ আশা করে। সঙ্গীর সাথেও পর্ণভিডিওর মত নির্যাতন শুরু করে। পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত ব্যাক্তি কখনো একজন সঙ্গীতে সুখী থাকতে পারে নাহ। ফলে সমাজে বিবাহ-বিছেদ, পরকীয়া, ধর্ষণ এর মতো ঘটনা ঘটছে।
পর্ণোগ্রাফি দেখা বা হস্তমৈথুন করা কখনোই ভালো আচরণ,অভ্যাস হতে পারে নাহ। পর্নোগ্রাফি দেখার এরকম নানা প্রভাব রয়েছে, যা প্রতিনিয়তই মানুষের স্বাভাবিক আচরণকে বিকৃত করে দিচ্ছে ।
পর্ণোগ্রাফি দেখার ফলে মানুষ মুলত কিছু তুচ্ছ সুখ ক্রয় করে, যার বিনিময় তাকে সারাজীবন দিতে হয়। তাই এতে আসক্ত ব্যাক্তির উচিত এই মন্দ অভ্যাস ত্যাগ ও সুন্দর আর্দশের অনুসরণ করা।
( উপরোক্ত লেখায় কোনো ভুল-ক্রটি হলে, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
সংশোধন করার জন্য ইমেল এ যোগাযোগ করতে পারেন।)
পর্ণোগ্রাফি : আসলেই ভালো ?
Reviewed by Biggan Janala
on
June 30, 2020
Rating:
Reviewed by Biggan Janala
on
June 30, 2020
Rating:


No comments