ইমার্জিং ভাইরাস

ইমার্জিং ভাইরাস

-Montasir Jim



আশ্চর্যের ব্যাপার হলেও পরিক্ষার মাধ্যমে দেখা গিয়েছে যে, ১ চামচ সমুদ্রের পানিতে ১ মিলিয়ন ভাইরাস থাকে!!!এমনকি আপনার অজান্তেই আপনার চারিপাশে একটা ভাইরাস এর রাজ্য রয়েছে কিন্তু আপনি তা জানেন না। আপনি অবাক হলেও এটি ত্যি।



File:3D medical animation corona virus.jpg - Wikimedia Commons




এই ভাইরাস আসলে কি? অণুজীববিজ্ঞান এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ভাইরাস আসলে কিন্তু কোন অনুজীব ই নয়। এটিকে আলাদা একটি সত্তা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে অনেক আগেই। এটি জীবদেহের বাহিরে একটি নিষ্ক্রিয় রাসায়নিক পদার্থ হিসেবে বিরাজ করে কিন্তু জীবদেহের ভিতরে এটি সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করে।এখন প্রশ্ন হতে পারে যে আমাদের চারপাশে ভাইরাস এর এই বিশাল বিচরণ থাকলে তো প্রতিনিয়তই আমাদের রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কথাটি আংশিক সঠিক ও আংশিক ভুল।আংশিক সঠিক কারন আমরা যখনই জ্বরে কিংবা সর্দি কাশি তে আক্রান্ত হই তার অধিকাংশই ভাইরাস এর প্রতিক্রিয়াতেই হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত কথাটি ভুল হওয়ার পেছনের যুক্তি হলো, ভাইরাস আপনাকে তখনি সংক্রমন করবে যখন আপনার শরীরে সেই ভাইরাস এর রিসেপ্টর সাইট থাকবে। আপনার শরীরে সেই নির্দিষ্ট ভাইরাস এর রিসেপ্টর সাইট না থাকলে ভাইরাস এর বিশাল রাজ্যও আপনাকে কিছু করতে পারবে না।

New virus in China 'will have infected hundreds' - BBC News








সম্প্রতি বহুল সংক্রমিত করোনা ভাইরাস আসলে একটি ইমারজিং ভাইরাস। ইমারজিং ভাইরাস হল সেসব ভাইরাস যেগুলো এক পোষক দেহ হতে  সম্পর্কহীন অন্য আরেক পোষক দেহে ছরায়।১৯১৮ সালে সঙ্ঘটিত স্প্যানিশ ফ্লু ভাইরাস টিও একটি ইমারজিং ভাইরাস। যা পাখি থেকে মানুষের দেহে এসে সংক্রমিত হয়েছিল।করোনা ভাইরাস কিন্তু কোন নতুন ভাইরাস নয়।এটি Coronaviridae ভাইরাল গোত্রের একটি ভাইরাস।SARS ভাইরাস এক প্রকারের করোনা ভাইরাস।সম্প্রতি যেই করোনা ভাইরাস টি অতি মাত্রায় সংক্রমিত হচ্ছে সেটি হল নোভেল করোনা ভাইরাস যেটি COVID-19 নামক একটি নতুন রোগের সৃষ্টি করেছে। মানুষের শ্বসনতন্ত্রের কোষের প্লাজমা মেম্ব্রেন এ এই ভাইরাসটির রিসেপ্টর সাইট রয়েছে বিধায় এটি শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে। এ পর্যন্ত ইমারজিং ভাইরাসগু্লো অন্য যেকোনো ভাইরাস এর তুলনায় বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে এবং কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর কারন হয়ে দাড়িয়েছে। মানুষের পশু পাখির সাথে অবাধ মেলামেশা এর অন্যতম কারন হতে পারে।

আরেকটি বিষয় হল যে ভাইরাস সংক্রমিত যেকোনো ব্যাক্তি সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল অ্যাটা্কের  সম্মুখীন হতে পারে যার কারনে প্রায় সময়ই জ্বরে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে চিকিৎসকগণ এন্টিবায়টিক সেবন করতে বলে থাকে। এ্টিবায়টিক কিন্তু ভাইরাস এর বিরুদ্ধে কাজ করে না। এটই কেবল সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল অ্যাটাক থেকে রক্ষা করে। ভ্যাকসিন ছাড়া ভাইরাস এর বিরুদ্ধে কেবল মাত্র “ইন্টারফেরন” নামক এন্টিভাইরাল ড্রাগ কার্যকরী। তাই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যাক্তি যে শেষ পর্যন্ত ভাইরাস এ সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে সেটা না হয়ে ভাইরাস এ সংক্রমিত হয়ে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রা্ন্ত হয়েও মারা যেতে পারে!!!!!

ইমার্জিং ভাইরাস ইমার্জিং ভাইরাস Reviewed by Biggan Janala on April 04, 2020 Rating: 5

1 comment

  1. The end is near.
    খুবই সুন্দর লেখা

    ReplyDelete

CHEMISTRY

3/CHEMISTRY/small-col-right

Main Slider

5/Slider/slider-tag