GOLDEN RATIO : সৌন্দর্য্যের প্যাটার্ন
GOLDEN RATIO : সৌন্দর্য্যের প্যাটার্ন
-Zahir Sadik
যুগে যুগে অনেক দার্শনিক, চিন্তাবিদ, বিজ্ঞানী, গণিতবিদরা এই বিষয় নিয়ে ভেবেছেন, কাজ করেছেন। এর ফলে একটি বিষয় মানুষ জানতে পেরেছে যে গণিত শুধু বিজ্ঞানের একটি ভাষা হিসেবেই কাজ করে না বরং কাজ করে নান্দনিকতার একটি সিক্রেট কোড হিসেবে৷ সৌন্দর্যের পিছনে কাজ করে একটি গাণিতিক অনুপাত ।
1.618.... : 1
এই অনুপাতটিই "সোনালি অনুপাত" বা "GOLDEN RATIO" নামে পরিচিত।
জগতের প্রতিটি নিখুঁত সৃষ্টি, প্রায় প্রতিটি সৌন্দর্যে লুকিয়ে থাকে এই Golden Ratio. উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। জগতের সবচেয়ে নিখুঁত ও সবচেয়ে উত্তম সৃষ্টি হলো মানবদেহ। আর এই মানবদেহ হল সোনালি অনুপাত এর অন্যতম একটি উদাহরণ। জার্মান রিসার্চার Ernst Ising ২০০০ জন মানুষকে পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারেন -
১. আদর্শ মানবদেহের নাভি থেকে পা এর নিচ পর্যন্ত এবং নাভি থেকে মাথা উপরিভাগ পর্যন্ত অংশের অনুপাত পুরুষের ক্ষেত্রে 13/8=1.625 এবং নারীর ক্ষেত্রে 8/5=1.6, যা সোনালি অনুপাতের মান এর খুব কাছাকাছি। যাদের দেহের এই অনুপাত 1.6 এর যত কাছাকাছি হয় তাদের দেহ তত “সুন্দর” বা আদর্শ হয়ে থাকে।
২. মানুষের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত এবং কব্জি থেকে মধ্যাঙ্গুলির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের অনুপাত 1.6….
কব্জি থেকে মধ্যাঙ্গুলির শুরু এবং তা থেকে প্রথম জয়েন্ট পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের অনুপাত 1.6… আবার মধ্যাঙ্গুলির শুরু থেকে প্রথম জয়েন্ট ও প্রথম জয়েন্ট থেকে ২য় জয়েন্ট এর দৈর্ঘ্যের অনুপাত 1.6….. সকলের ক্ষেত্রে 1.6 আসবে না। 1.6 এর কাছাকাছি আসবে৷ তবে যার ক্ষেত্রে 1.6 এর যত কাছাকাছি আসবে তার দেহাঙ্গ তত নান্দনিক হবে।
Golden Ratio এর ধারণা পাওয়া যায় “ফিবোনাক্কি ধারা” বা “Fibonacci Series” থেকে । ফিবোনাক্কি ধারার বৈশিষ্ট্য হলো যে এর প্রতিটি সংখ্যা তার আগের দুইটি সংখ্যার যোগফল ।
1, 1, 2, 3, 5, 8, 13, 21, 34, 55, 89……………..
লক্ষ্য করে দেখুন যে এখানে,
5/3=1.67
8/5= 1.6
13/8=1.625
21/13= 1.615…
34/21=1.619
এভাবে ধারাটি তে যত সামনের দিকে আগানো যায় অনুপাতের মান তত 1.618… এর নিকটবর্তী হয়। বিষয়টি সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন জ্যোতির্বিদ Johannes Kepler.
আমি যদি আপনাকে অনেকগুলো বীজ দেই আর বলি যে এটাকে এমনভাবে সাজান যেন সবচেয়ে কম জায়গায় সবচেয়ে বেশি বীজ রাখা যায় এবং দেখতে সবচেয়ে সুন্দর হয় তখন আপনি কি করবেন? তখন সাহায্য নিতে হয় ফিবোনাক্কি ধারা এবং Golden Ratio এর ।
এর মাধ্যমেই সূর্যমুখী ফুলে সবচেয়ে কম জায়গায় সবচেয়ে বেশি বীজ সবচেয়ে নান্দনিক ভাবে সজানো থাকে। এতে তার নান্দনিকতা এবং বংশবৃদ্ধি সুনিশ্চিত হয়।
এই Golden Ratio এর সাহায্য নিয়ে আয়তক্ষেত্র এবং তার ভিতর আরও আয়তক্ষেত্র আঁকলে এরকম হয়।
এর মধ্যে একটি প্যাঁচানো আকৃতি পাওয়া যায়। একে বলে “Golden Spiral”।
এই Golden Spiral প্রকৃতির আরেকটি সিক্রেট কোড। দেখেই নিন-
১। সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলসে
২। মানব মস্তিষ্কে
৩।মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি তে
৪। ঝড়ের ক্ষেত্রে
৫। মানব ভ্রূণে
প্রাচীন গ্রীক এর স্কলার রা এই অনুপাত সম্বন্ধে জানত। তাদের বিভিন্ন স্থাপনা যেমন The Parthenon যাকে বলা হয় “Famous for bringing aesthetic pleasure and having an impact on the emotional state of the viewers”, সেখানেও Golden Ratio Rule সূক্ষ্মভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন আর্টিস্ট (Leonardo da Vinci সহ অনেকে), লোগো ডিজাইনার রা Golden Ratio Rule অনুসরণ করে থাকেন। Twitter এর লোগো Golden Ratio এর একটি উদাহরণ ।
Golden Ratio প্রকৃতির একটি মিরাকল। 1.618…:1 সৌন্দর্যের সাথে গভীর ভাবে যুক্ত। যেখানেই নান্দনিকতা সেখানেই এই অনুপাতের দেখা মিলে।
(সতর্কতাঃ ইন্টারনেট এ Golden Ratio ও Golden Spiral এর অনেক উদাহরণ থাকলেও তার সবগুলো সত্যি নয়।)
GOLDEN RATIO : সৌন্দর্য্যের প্যাটার্ন
Reviewed by Biggan Janala
on
April 05, 2020
Rating:
Reviewed by Biggan Janala
on
April 05, 2020
Rating:


















No comments